JS Home

by Munshi

সাম্প্রতিক

    বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) অল্প খরচে সেচ সুবিধা দিতে চালু করে ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় মেহেরপুর জেলায় ৪৫টি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। আরও ৫টি চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কম খরচে সেচ সুবিধা পেলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় কৃষক লাভবান হবে।

    একেকটি গভীর নলকূপ থেকে এক হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়া হয়। সেচ কাজ পরিচালনার জন্য প্রতিটি নলকূপ থেকে ১২শ মিটার পর্যন্ত সেচ নালা তৈরি করা হয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বেশ কিছু বিদ্যুৎ ও পানি অপচয় হয় এবং শ্রমিকও লাগে বেশি। এ অপচয় রোধ করতে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ডিভাইসটি আবিষ্কার করেছেন মনিরুল ইসলাম।

    উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম জানান, একজন ছাত্রের দেয়া ধারণা থেকেই ডিভাইস তৈরিতে মনযোগী হন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি সফল হন। এখন অনেকেই ডিভাইস তৈরি করে নিতে তার কাছে ভিড় জমাচ্ছেন। ডিভাইসটি তৈরি করতে খরচ হচ্ছে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। সরকারের সহযোগিতা পেলে সারা দেশে এটি ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।
    তিনি এরকম আরও একটি ডিভাইস আবিষ্কার করেছেন যেটার মাধ্যমে পানির ট্যাংকিতে পানি তোলার মটর আপনা আপনি চালু ও বন্ধ করা যায়।
    মেহেরপুর বিএডিসি ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহ জালাল আবেদীন আরও জানান, রিমোট কন্ট্রোলটি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় কম হচ্ছে। এটি ব্যবহার করতে জেলার সব পাম্প মালিককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সফল হলে সারা দেশে এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

অর্থনীতি

    মেহেরপুর জেলায় করলা চাষে বিপ্লব হয়েছে। এ বছর যেমন করলার ব্যাপক চাষ হয়েছে তেমন হয়েছে ফলন। দাম ভালো থাকায় সাধারণ কৃষকদের মাঝেও চাষে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে কম পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন করলা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। প্রতিদিন অন্তত ১০ ট্রাক করলা দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত হচ্ছে।

    প্রান্তিক জনপদের ছোট-বড় করলা চাষীরা প্রতিদিন ভোরে এসব করলা বাজারজাতে স্থানীয় কাঁচা বাজারের পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে নিয়ে আসেন।

    জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় এ মৌসুমে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে করলার চাষ করা হয়েছে। প্রতিবিঘা জমিতে করলা চাষ করতে যেমন খরচ হচ্ছে সর্বোচ্চ বিশ হাজার টাকা। ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় লক্ষাধিক টাকার বেচাকেনা হচ্ছে।
    সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের করলা চাষী আল আমীন হোসেন বলেন, গত বছর ২০ শতক জমিতে করলা চাষ করে মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ১ লক্ষাধিক টাকা আয় করেছি।
    এ বছরও জমি বাড়িয়ে ৪৫ শতক জমিতে চাষ করে ভালো টাকা পাচ্ছি। এ বছরও ৪০ হাজার টাকা খরচ করেছি এবং প্রায় ২ লাখ টাকা আয় হবে। একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে করলার পাশাপাশি বেগুন ও সিম চাষ করেছেন তিনি।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি, কুতুবপুর, ঝাউবাড়িয়া, রঘুনাথপুর, পিরোজপুর, ফতেপুর, গোভিপুরসহ বিভিন্ন মাঠে করলা চাষ হচ্ছে।
    কোনো চাষী সরাসরি মাঠে অথবা কোনো চাষী মাচা করে তার ওপর করলা চাষ করছেন। তবে মাচায় চাষ করলে খরচ একটু বেশি হলেও ফলন ও মান বেড়ে যায় বলে কৃষকরা জানান। মাত্র দেড় মাসে ফসল বিক্রি করতে পারায় তারা খুবই খুশি। মৌসুমের শুরুতে উৎপাদিত এ করলা প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়।

    কৃষকরা জানান, এখন আমাদের দেখা দেখি এলাকার অনেকে করলা চাষ করছেন। কারণ হিসেবে তারা জানান, করলা চাষ করতে বাড়তি পরিশ্রম করা লাগে না। অল্প একটু সময় দিলেই এই চাষে সাফল্য পাওয়া সম্ভব। তাই কৃষকরা করলা চাষের দিকে ঝুঁকেছে। আমঝুপি ইউনিয়নের করলা চাষী রফিকুল আলম জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে করলা চাষ করেছেন।
    খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত লক্ষাধিক টাকার বেচা কেনা হয়েছে। বর্তমান বাজারদর থাকলে আরো লক্ষাধিক টাকার বেচাকেনার আশা করছেন তিনি।

    মেহেরপুর শহরের বড় বাজার এলাকার আড়ত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রতিটা আড়ত ৩ থেকে ৪ ট্রাক করলা আসে। যা মেহেরপুরের বিভিন্ন খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান। এ ছাড়াও প্রতিদিন সমপরিমাণ করলা ঢাকা, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হয়। তিনি বলেন, করলার বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকরা এ চাষের দিকে ঝুঁকেছেন।

    শহরের হোটেল বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ কেজি করলা নিয়ে আসেন যা প্রায় সব বিক্রি হয়ে যায়। প্রতি কেজি করলা তিনি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় মানুষ জ্বরসহ বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে ভুগছে। তাই মানুষের রুচি নষ্ট হয়ে যায়। করলা ভাজি করে খেলে মুখের রুচি ফিরে আসে তাই খুচরা কাস্টমাররা সব সময় এই সবজি চান।

    মেহেরপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, কৃষকরা অন্য যে কোনো চাষের সঙ্গে খুবই অল্প খরচে করলা চাষ করতে পারেন। তাই এ বছর কৃষকরা অনেকেই এ চাষ করছেন। তা ছাড়া বাড়তি কোনো ঝামেলা না থাকায় কৃষকরা খুব সহজেই এ চাষ করতে পারেন। আবার জেলার কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। তাই তারা এ আবাদ করতে পারছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বছর ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। উন্নত মানের হাইব্রিড জাতের করলা জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০ ট্রাক ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত হচ্ছে। প্রতিবছরই করলা চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

  • উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন মেহেরপুরের চাষিরা। আমন ধান সংগ্রহের পর জমি ফেলে না রেখে এ আবাদ করছেন তারা। আর এতে সহায়তা ও …

  • একবার চারা রোপণ করে ২৪ মাসে তিনবার ফলন পাওয়া যায়। খরচ কম; লাভ বেশি, তাই মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলার কলা চাষিদের ভাগ্য বদলে সুদিন এসেছে। …

  • মেহেরপুরে ভরা মৌসুমে আমের মুকুলে ভরে উঠেছে বাগান। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন আম চাষিরা। মেহেরপুর সদর, মুজিনগর ও গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার …

  • “দক্ষতা অর্জন করুন, নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলুন” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজধানীর মৌচাকে ১২ই জুলাই, ২০১৯ বাংলাদেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার কোডার্সট্রাস্ট এর ৫ম …

গল্প

    ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস সম্পর্কে শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু বলেছেন, “মুজিবনগরকে ঘিরেই স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস। তাই মুজিবনগরকে বাদ দিয়ে কথা বলা যাবে না।”
    মেহেরপুরের মুজিবনগরে আয়োজিত জনসভায় আমু বলেন, “যারা দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকাকে স্বীকার করে না, তারা স্বাধীনতার এই চিরন্তন ইতিহাসকে বিকৃত করার ষড়যন্ত্র করছে।
    এদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর এই সদস্য।
    জনসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম সভাপতিত্ব করেন।
    সমাবেশে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি ও খনিজ বিষয়ক উপদেষ্টা ও তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমা প্রশাসক তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খাঁন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসেনসহ সাতক্ষীরা, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা জেলার সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
    সমাবেশের আগে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
    খুলনা বিভাগসহ বিভিন্ন জেলা থেকে যানবহন নিয়ে অসংখ্য মানুষ সমাবেশে অংশ নেয়।
    সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় মুজিবনগর মাঠে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
  • ঘাস ফরিঙ্গের গন্ধ মেখে ছোট্ট নদীর আঁকে বাকে কাক-কউরির ডুব সাতারে এই চিঠিটা পোছে যাবে গাংশালিকের হাতে… তখন মতিঝিলের অফিস পাড়ায় টিভিন কারির শুকনো রুটি, আরও …

  • ধবধবে সাদা শাড়ি ও ওড়না পরে ৬৫ বছরের বাছিরন তার সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল জানতে এসেছিলেন বিদ্যালয়ে। ফলাফলে দেখা গেল বিদ্যালয়ের সেরা তিনিই। হোগলবাড়ীয়া পুর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের …

  • ঘাস ফরিঙ্গের গন্ধ মেখে ছোট্ট নদীর আঁকে বাকে কাক-কউরির ডুব সাতারে এই চিঠিটা পোছে যাবে গাংশালিকের হাতে… তখন মতিঝিলের অফিস পাড়ায় টিভিন কারির শুকনো রুটি, আরও …

  • মেহেরপুর ছবিতলা

    by Munshi

    মেহেরপুর শহর থেকে মুজিবনগর যাওয়ার পথে মোনাখালী ব্রিজ পার হলে দারিয়াপুর বাজার। আর বাজারের প্রবেশমুখে বাঁ দিকেই ফিরোজা বারী কমপ্লেক্স। ঢোকার পর দেখা যায় লিচুবাগান। বাগানের …

জীবনযাপন

    খেলাধুলার মাধ্যমে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষার লক্ষে মেহেরপুরের গাংনী কাজীপুর সীমান্তে হয়ে গেল বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ ভলিবল টুর্নামেন্ট। বুধবার বিকেলে বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে কাজীপুর ফুটবল মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

    সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া যখন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। উভয়দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যখন উভয় দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে নিজেদের সাংস্কৃতি ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান করে নিজেদের সম্পর্ককে বন্ধুত্বপূর্ণ করতে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মেহেরপুরের কাজীপুর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ এর মধ্যে হয়ে গেল এমনই বন্ধুত্ব ভলিবল খেলা। ৪৭ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মিরপুর সেক্টর একাদশ ও ভারতের ৩৯ বিএসএফ সেক্টর একাদশ এই খেলায় অংশ নেন।

    ৪৭ বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কাজীপুর কোম্পানি এই খেলার আয়োজন করে। ৩-২ গেমে বিএসএফ ভলিবল একাদশকে হারিয়ে বিজিবি চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষে মিরপুর ৪৭ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মাহবুবুর রহমান ও ভারতীয় ৩৯ বিএসএফ’র নদীয়া জেলার রওশন বাগ বিএসএফ সেক্টর কমান্ড্যন্ট এস,কে শাহা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

    ভারতীয় ভলিবল দলের অধিনায়ক অ্যাসিস্টেন্ট কমান্ড্যন্ট শ,জি ডি পুন্দিরের হাতে রানার্স আপ ও বাংলাদেশ বিজয়ী দলের বর্ডারগার্ড একাদশের অধিনায়ক নায়েক সুবেদার তরিকুল ইসলামের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

    পরে, উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তা ও খেলোয়ারবৃন্দদের মধ্যে উপহার সামগ্রী বিতরণ হয়। সৌহর্দ্যপূর্ণ এ ভলিবল টুর্নামেন্ট দেখার জন্য এলাকার হাজার হাজার নারী পুরুষ, শিশু, দর্শক মাঠে উপস্থিত ছিলেন।

  • সাপ আতঙ্কে রয়েছেন মেহেরপুরের বিভিন্নস্থানের মানুষজন। গেলো তিন মাসে জেলাজুড়ে সাপের কামড়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার পূর্ব মালসাদহ গ্রামের নুরুল ইসলামকে গেলো …

  • জন্মের পর থেকে আর দশটা ছেলের মতো জীবনযাপন করত মামুন। সবার মতো সেও স্কুলে যেত, খেলাধুলা করত। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় তার …

  • ‘লাইভ ব্লাড ব্যাংক’ মোবাইল অ্যাপলিকেশন হল জরুরী ভিত্তিতে রক্তের সন্ধানে রক্তদাতা ও গ্রহীতার জন্য একটি দ্রুত, সহজ এবং নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম। বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীসহ বিভিন্ন জরুরী প্রয়োজনে সহজে ও দ্রুততম সময়ে নিরাপদ রক্তের সন্ধান এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কে উৎসাহিত করতে মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি এঁর উদ্যোগে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে ‘লাইভ ব্লাড ব্যাংক‘ মোবাইল অ্যাপ। এই অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই পাওয়া যাবে নিরাপদ রক্তের সন্ধান। রক্তদানের ক্ষেত্রে সর্বদা সোচ্চার বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এই অ্যাপটি স্বপ্রনোদিতভাবে পরিচালনা করবে এবং এর সকল সদস্য এই অ্যাপে নিবন্ধন করে রক্তদানের মহান কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশে এখন বছরে প্রায় ১০ লাখ ব্যাগেরও বেশি রক্তের প্রয়োজন। যার প্রায় ৮০ ভাগই পাওয়া যায় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের কাছ থেকে। কিন্তু জরুরী অবস্থায় সঠিক রক্তদাতার সন্ধান পাওয়া বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে রক্তের অভাবে বছরে প্রায় এক লাখেরও বেশি মানুষ প্রান হারায়। যখন জরুরি রক্তের প্রয়োজন হয়, তখন অনেক ছোটাছুটি করে রক্ত না পেয়ে, অনেকেই ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রক্তের জন্য অনুরোধ করে থাকেন এবং রক্তদাতার যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে থাকেন। ফলে অনেক অপ্রয়োজনীয় জায়গায় ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর চলে যায়। আবার স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সন্ধান না পেয়ে অনেকেই পেশাদার রক্তদাতাদের কাছে যান। এই পেশাদার রক্তদাতাদের রক্তে নানা রকম রোগ জীবানু–ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা তো থাকেই, অনেক সময় আবার তাদের দ্বারা প্রতারণার স্বীকারও হতে হয়। আর তাই জরুরী সময়ে এসব অনভিপ্রেত ঝামেলা এড়াতে একটি নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে “লাইভ ব্লাড ব্যাংক” অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে যে কেউ রক্তদাতা হিসেব যোগ দিতে পারবে এবং রক্তগ্রহীতা হিসেবে রক্তের জন্য অনুরোধ করতে পারবে। যখন কোনো রক্তগ্রহীতা রক্তের জন্য লাইভ ব্লাড ব্যাংক অ্যাপ এ অনুরোধ করবে তখন রক্তগ্রহীতার রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী তার নিকটবর্তী অ্যাপ ব্যবহারকারী সেই রক্তের গ্রুপের সকল সদস্যের কাছে নোটিফিকেশন চলে যাবে। নোটিফিকেশন পাওয়ার পর রক্তদাতা সেই অনুরোধটি গ্রহণ করতে পারবে আবার অগ্রাহ্য ও করতে পারবে। যিনি বা যারা এই অনুরোধটি গ্রহণ করবেন তাদের ছবি, নাম, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা এবং রক্তগ্রহীতা থেকে রক্তদাতার দুরত্ব রক্তগ্রহীতার অ্যাপে চলে আসবে এবং তারা মোবাইলে যোগাযোগ করতে পারবে। একের অধিক রক্তদাতা যদি অনুরোধটি গ্রহণ করেন তবে রক্তগ্রহীতা ব্যক্তি দূরত্ব ও সময় বিবেচনা করে সবচেয়ে কাছে থাকা রক্তদাতাকে সিলেক্ট করতে পারবে। যেহেতু, এই অ্যাপ এর মাধ্যমে রক্ত দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরাই এগিয়ে আসবে, তাই প্রতারিত হবার সম্ভাবনাও কমে আসবে। এভাবেই খুব সহজে প্রকৃত রক্তদাতা খুঁজে পাওয়া যাবে এবং জরুরী রক্তের চাহিদা পূরণ হবে। লাইভ ব্লাড ব্যাংক অ্যাপে রক্তদান সম্পর্কিত আরও বিভিন্ন ফিচার যোগ করা হয়েছে যেমন: ডোনার ম্যাপ, ব্লাড ডোনার গ্রুপ, নিকটবর্তী ব্লাড ব্যাংক, সেভড ডোনারস, ইনভাইট ফ্রেন্ডস ইত্যাদি। হোম পেইজ এ একটি নিউজ ফীড এর মাধ্যমে সকল অ্যাক্টিভিটি প্রদর্শিত করা হয়েছে। এতে রক্তদান সম্পর্কিত তথ্য, রক্তের অনুরোধ, রক্তদান এবং জরুরী সচেতনতা মূলক তথ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল মিলনায়তনে এই অ্যাপটির উদ্বোধন করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে আইসিটি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে অ্যাপটি। যা পরিচালনা করবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং ডাকসু। তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এন এম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে অ্যাপটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পলক বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে একজন মানুষও যেন রক্তের অভাবে মৃত্যু বরণ না করে সেই প্রত্যয় বাস্তবায়নে ছাত্রলীগ এগিয়ে আসবে, রক্ত দিয়ে মানুষদের বাঁচাবে।ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রতি এই লাইভ ব্লাড ব্যাংক অ্যাপটিকে সফল করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল যুদ্ধে দেশ বিরোধী চক্র ও চক্রান্তকে পরাজিত করে ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ে তোলা হবে। হ্যালো ছাত্রলীগসহ গণমানুষের সেবায় ছাত্রলীগের বিভিন্ন উদ্যোগে সব রকম সহযোগিতা করবেন তিনি।এ সময় রক্তদানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করেন পলক। এরপর মোবাইলে লাইভ ব্লাড ব্যাংক অ্যাপটি ডাউনলোড করে দেখান ও অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।পলক জানান, অ্যাপটি এখন অ্যাড্রয়েন্ডে ডাউনলোড করা যাবে। কয়েক মাসের মধ্যে আইওএসে চলে আসবে। এছাড়া ফেইসবুক–টুইটারে ইন্টারফেস করে দেয়া হবে, সেখান হতেও সরাসরি নিবন্ধন করা যাবে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)’র জিএস গোলাম রাব্বানী তার বক্তব্যে বলেন, লাইভ ব্লাড ব্যাংকটির পরিচালনায় রয়েছে ছাত্রলীগ এবং ডাকসু। এটি সারা দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, সব ইউনিয়নে এক যোগে যেন ম্যাসিভ ডাউনলোড হয় এবং সবচেয়ে বড় ইন্টারেক্টিভ ব্লাড ব্যাংক হয় সেটি বাস্তবায়নে কাজ করবে ছাত্রলীগ। লাইভ ব্লাড ব্যাংক অ্যাপটির বেটা ভার্সন ইতিমধ্যে গুগল প্লে স্টোরে প্রকাশ করা হয়েছিল যা ৫০০০ এর ও বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে। এর মধ্যে ৪০০০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান এ ইচ্ছুক। ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে থেকে এই অ্যাপ ব্যবহার হচ্ছে। ১২৫০টি রক্তের অনুরোধ করা হয়েছে এবং ৫০০ এর ও বেশি সফল রক্তদান সম্পন্ন হয়েছে। গুগল প্লে স্টোর থেকে বিনা মূল্যে লাইভ ব্লাড ব্যাংক অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাচ্ছে। গুগল প্লে স্টোরের ঠিকানাঃ http://bit.ly/livebloodbank এছাড়া অন্য সকল ব্যবহারকারীর কথা মাথায় রেখে অ্যাপটির বাংলা ও iOS ভার্সন খুব শিঘ্রই প্রকাশ করা হবে।

  • অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের নাম পরিবর্তন করেছে ওয়ালটন। ওয়ালটনের ফেসবুক পেজটি এতদিন ‘ওয়ালটন বিডি’ নামে থাকলেও আজ বৃহস্পতিবার দুপর ২টা থেকে পেজটির নাম ‘ওয়ালটন’ হয়েছে। ‘ওয়ালটন বিডি’ …

স্মৃতি ও ইতিহাস

    মেহেরপুর জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।মুক্তিযুদ্ধের সময় মেহেরপুরে পাকিস্তান বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংঘটিত বেশ কিছু প্রাথমিক যুদ্ধের সাক্ষী। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রথম কমান্ড, দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড গঠিত হয়েছিল। পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করে অস্থায়ী সরকার গঠন করে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করে।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান বাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর মধ্যে মেহেরপুরে সম্মুখ যুদ্ধের কথা নথিভুক্ত আছে। ।

    ২৬শে ফেব্রুয়ারি,১৯৮৪ সালে কুষ্টিয়া থেকে পৃথক করে মেহেরপুরকে স্বতন্ত্র জেলার মর্যাদা দেয়া হয়।

    বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় মেহেরপুর, একপ্রাচীন জনপদ।তবে ঠিক কোনসময়ে অবিভক্ত নদীয়ার এই প্রাচীন জনপদ গড়ে ওঠে তা জানা যায়নি। জনশ্রুতি আছে রাজা বিক্রমাদিত্যের সময় এখানে জনপদ গড়ে ওঠে। কিন্তু এসম্পর্কে কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণাদি পাওয়া যায় না।ঐতিহাসিক কুমুদনাথ মল্লিকের মতে, “কেহ কেহ এই স্থানটিকে মিহির-খনার বাসস্থান বলিয়াও নির্দেশ করেন এবং মিহিরের নাম হইতে মিহিরপুর, অপভ্রংশে মেহেরপুর কল্পনা করেন।” নামকরন সম্পর্কিত এ ধারণাটি অনুমান ও কল্পনানির্ভর। নামকরণ নিয়ে আরো একটি মতামত রয়েছে। ড. আশরাফ সিদ্দিকীর মতে, ১৬শ শতাব্দীর একজন দরবেশ মেহের আলী শাহের নামে এ অঞ্চলের নামকরণ হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য কোন তথ্যসূত্র পাওয়া যায় না। জেলা পরিচয় প্রাপ্তির আগে প্রাচীন জনপদ মেহেরপুরের ছিল ভিন্ন পরিচয়। কখনো বাগোয়ান, কখনো রাজাপুর পরগণার অধীনে শাসিত হয়েছে মেহেরপুর। ১৭৬৫ সালে কোম্পানি কর্তৃক দেওয়ানি লাভের ফলে মেহেরপুরও চলে যায় কোম্পানি শাসনে। স্থানীয় জমিদারের মদদে সংঘটিত নীলবিদ্রোহ দমনের উদ্দেশ্যে ১৮০৩ সালে গাংনী থানাকে নদীয়া জেলা থেকে অবমুক্ত করে যশোর জেলার সাথে যুক্ত করা হয়।

    মেহেরপুর জেলা ২৩.৪৪/ থেকে ২৩.৫৯/ ডিগ্রী অক্ষাংশ এবং ৮৮.৩৪/ থেকে ৮৮.৫৩/ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের পশ্চিমাংশের সীমান্তবর্তী জেলা। এ জেলার উত্তরে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলা ও পশ্চিমবঙ্গ (ভারত); দক্ষিণে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা , দামুড়হুদা উপজেলা ও পশ্চিমবঙ্গ (ভারত); পূর্বে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলা , চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা , পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। মেহেরপুরের পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত প্রায় ৬০ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে।

    দেশভাগের পূর্বে মেহেরপুর ভারতের নদীয়া জেলার অংশ ছিল। মেহেরপুর জেলা হিসাবে স্বীকৃতি পায় ১৯৮৪ সালে। বর্তমানে এ জেলায় ৩টি উপজেলা, ১৮টি ইউনিয়ন, ১৮০টি মৌজা, ২৮৫টি গ্রাম, ২টি পৌরসভা, ১৮টি ওয়ার্ড এবং ১০০টি মহল্লা রয়েছে।

    মেহেরপুর শহরের আয়তন ১৫.৯২ বর্গ কি.মি.। ষোলশ শতাব্দীর শুরুতে এ শহরের গোড়াপত্তন হয়। ১৯৬০ সালে এটি মিউনিসিপ্যালিটির মর্যাদা পায়।

  • স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঐতিহাসিক মেহেরপুর জেলা ভারতের সীমান্ত এলাকা হওয়ায় মুজিবনগর খ্যাত এ অঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম। এই মেহেরপুরের তৎকালীন জেলা কুষ্টিয়া পাক-হানাদের দ্বারা আক্রান্ত হলে এ …

  • মেহেরপুর ছবিতলা

    by Munshi

    মেহেরপুর শহর থেকে মুজিবনগর যাওয়ার পথে মোনাখালী ব্রিজ পার হলে দারিয়াপুর বাজার। আর বাজারের প্রবেশমুখে বাঁ দিকেই ফিরোজা বারী কমপ্লেক্স। ঢোকার পর দেখা যায় লিচুবাগান। বাগানের …

  • মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১০ই এপ্রিল তারিখে। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল এই সরকারের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। …

  • ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরের ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে নির্মাণ করা হয় ভাস্কর্য। কিন্তু সংস্কারের অভাবে ওই সব ভাস্কর্য এখন জরা জীর্ণ। তবে দ্রুত এগুলো …

বিবিধ

মেহেরপুর জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।মুক্তিযুদ্ধের সময় মেহেরপুরে পাকিস্তান বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংঘটিত বেশ কিছু প্রাথমিক যুদ্ধের সাক্ষী। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ …

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঐতিহাসিক মেহেরপুর জেলা ভারতের সীমান্ত এলাকা হওয়ায় মুজিবনগর খ্যাত এ অঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম। এই মেহেরপুরের তৎকালীন জেলা কুষ্টিয়া পাক-হানাদের দ্বারা আক্রান্ত হলে এ …

মেহেরপুর শহর থেকে মুজিবনগর যাওয়ার পথে মোনাখালী ব্রিজ পার হলে দারিয়াপুর বাজার। আর বাজারের প্রবেশমুখে বাঁ দিকেই ফিরোজা বারী কমপ্লেক্স। ঢোকার পর দেখা যায় লিচুবাগান। বাগানের …

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১০ই এপ্রিল তারিখে। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল এই সরকারের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। …

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরের ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে নির্মাণ করা হয় ভাস্কর্য। কিন্তু সংস্কারের অভাবে ওই সব ভাস্কর্য এখন জরা জীর্ণ। তবে দ্রুত এগুলো …

দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে নব নির্মিত মেহেরপুরের গাংনীর ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্ক। সবুজ গাছের ছায়াঘেরা পরিবেশের মায়ায় আবদ্ধ বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা। এছাড়াও কাজলা নদীতে নৌকা আরোহন এক অন্যমাত্রা …

টপ নিউজ

প্রাকৃতিক

    কাঠবিড়ালী কাঠবিড়ালী পেয়ারা তুমি খাও?’ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা খুকি কাঠবিড়ালী কবিতা পড়েননি এমন কাওকে পাওয়া ভার। খুব পরিচিত অনিন্দ্য সুন্দর দূরন্ত এই প্রাণিটী এখন আর আগের মতো দেখা যায় না।

    জানা গেছে, এক সময়  মেহেরপুরের বনে জঙ্গলে গাছপালায় এমনকি লোকালয়ে কাঠবিড়ালীর অবাধ বিচরণ থাকলেও এখন তেমন চোখে পড়েনা। অসাধু চোরা শিকারিদের শ্যেনদৃষ্টি পড়েছে নয়নাভিরাম ছোট্ট প্রাণী কাঠবিড়ালির ওপর।

    ডোরাকাটা এই কাঠবিড়ালি শিকারিরা ধরে পাচার করছে। এছাড়া জলবায়ুর পরিবর্তন, মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের প্রয়োগ সর্বপোরি আবাসভূমি বিনষ্টের কারণে দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে কাঠবিড়ালী।

    কাঠবিড়ালি (ঝয়ঁরৎৎবষ) জড়ফবহঃরধ ঝপরঁৎবফধপ গোত্রের স্তন্যপায়ী প্রাণী। শরীরটা লম্বাটে। প্রায় শরীরের সমান দীর্ঘ লেজ। পুরো লেজ ঘন পশমে ঢাকা। বড় বড় চোখ। প্রখর দৃষ্টি। সামনের দুই পা ছোট।

    পায়ের আঙুলে ধারালো নখ রয়েছে। এই নখ দিয়ে এরা তরতরিয়ে লম্বা যেকোনো গাছে উঠতে পারে। পেছনের লম্বা পা কাজে লাগায় দ্রুতগতিতে লাফ দিতে। লম্বা গাছে ওঠার সময় বুদ্ধি করে লেজ গুটিয়ে রাখে।

    দেশে এর আটটি প্রজাতি দেখা যায়। এর মধ্যে পাঁচডোরা কাঠবিড়ালি দেখতে সবচেয়ে সুন্দর। বাদামি, কালো, উড়ুক্কু কাঠবিড়ালি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকলেও পদ্মার দক্ষিণ পাশের বৃহত্তর ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, খুলনা ও যশোর জেলায় পাঁচডোরা কাঠবিড়ালির দেখা মেলে। আকারে ছোট, লেজসহ মোট দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি।

    বাদামি রঙের ওপর কালো ডোরার এই কাঠবিড়ালির প্রিয় খাবার ফল, খেজুরের রস, বীজ। এরা একসঙ্গে একাধিক বাচ্চা দেয়। নিরীহ প্রাণীটির চলাফেরা বা খাবার সংগ্রহের দৃশ্যও যেকোনো সাধারণ মানুষকে মুগ্ধ করবে।

    বন বিভাগের যশোর অঞ্চলের বিভাগীয় কর্মকর্তা সাইদুর রশিদ বলেন, কাঠবিড়ালি নিরীহ প্রাণী। চোরা শিকারিদের অপতৎপরতায় কাঠবিড়ালির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। সুন্দর প্রাণীটি টিকিয়ে রাখার জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টিতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন

  • সাম্প্রতিক  জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত কারণে বে-সামাল হয়ে উঠেছে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিপর্যস্ত অবস্থার মুখোমুখি আমাদের কৃষি কর্মকান্ড। নদীর গভীরতা কমে উচ্চতা বৃদ্ধিসহ গতিপথ পরিবর্তন, বনভূমি উজাড়, …

  • চোখ ধাঁধানো কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম রঙে সেজেছে প্রকৃতি। কৃষ্ণচূড়ার রঙে রক্তিম ফুলে মেহেরপুর সেজেছে গ্রীষ্মের রোদ্দুরের উত্তাপ গায়ে মেখে। রাস্তার দু’পাশে অগনিত কৃষ্ণচূড়ার গাছে ফুলের সমারোহ রঙ …

ফিচার

    ই-স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে চালু হয়েছে মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্য পরামর্শ সেবা কার্যক্রম ‘আপনজন’। যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবার হেলথ ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে ২০১১ সালের মে মাসে ততকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন মোবাইল এলায়েন্স ফর ম্যাটারনাল এ্যাকশনের (মামা) উদ্বোধন করেন। ওই বছরই বাংলাদেশে পাইলট কার্যক্রম হিসেবে শুরু হওয়া সেবাটি ২০১২ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত করা হয়। সারা দেশজুড়ে এয়ারটেল, বাংলালিংক, সিটিসেল, গ্রামীনফোন এবং রবি গ্রাহকেরা ১৬২২৭ এ ফোন করে নিবন্ধনের মাধ্যমে গর্ভবতী মা, শিশু এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা খুদে বার্তা, কন্ঠ বার্তা এমনকি সরাসরি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্য পরামর্শ সেবা নিচ্ছেন।
    মোবাইল ফোন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ হিসেবে ‘মামা’ উদ্যোগের আওতায় ইউএসএআইডি’র আংশিক অর্থায়নে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘এক্সেস টু ইনফরমেশন’ কর্মসূচীর সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা ডি-নেট বাংলাদেশে ‘আপনজন’ কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে।
    মামা ইনিশিয়েটিভের বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ‘আপনজন’ স্বাস্থ্য পরামর্শ সেবা কার্যক্রমের চীফ প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর রিজওয়ানা রশিদ অনি জানান, “‘আপনজন’ স্বাস্থ্য সেবা, বাংলাদেশে এমডিজি ৪ ও ৫ অর্থাত মাতৃ ও শিশুমৃত্যু প্রতিরোধকে সামনে রেখে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ঘন্টায় গর্ভ ও প্রসবকালীন জটিলতায় অনেক মা ও শিশু মারা যান। গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ মৃত্যুই প্রতিরোধ করা যায়। এসব মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, মা ও শিশুর যত্নের সঠিক তথ্যগুলো তারা জানতো না। যেমন, শিশুর জন্মের পর মা ও শিশুর যত্ন শুরু হয় যা গর্ভকালীন সময়েও প্রয়োজন ছিল।আপনজন স্বাস্থ্য পরামর্শ সেবার মাধ্যমে মা ও তার পরিবারকে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যটি আমরা দিই”।
    গর্ভাবস্থায় মায়ের যথাযথ যত্ন এবং সন্তান জন্মের পর মা ও শিশুর যত্নের ব্যাপারে উতসাহিত করতে ছয় সপ্তাহের গর্ভকাল থেকে শিশুর এক বছর বয়স পর্যন্ত এই পরামর্শ সেবা দেওয়া হয় জানিয়ে রিজওয়ানা বলেন, “এ সেবাটি মোবাইল ফোনে গ্রামীন ও শহুরে ভার্সনে খুদে বার্তা বা কন্ঠ বার্তার মাধ্যমে দেয়া হয়। গ্রাহকরা ১৬২২৭ এ ফোন করে ২ বাটন চেপে ডাক্তারের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলতে পারেন”।
    এই সেবার লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সাল নাগাদ ২০ লাখ মা ও ১০ লাখ পরিবারের কাছে এ সেবা পৌঁছে দেয়া হবে। বর্তমানে এক লাখ ৮৫ হাজার গ্রাহক এ সেবা পাচ্ছেন।
    এই স্বাস্থ্য পরামর্শ সেবার আওতায় গর্ভাবস্থায় বা শিশুর বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৬২২৭ এ ফোন করে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে পাওয়া যাবে গর্ভকালীন ও নবজাতকের যত্নে প্রয়োজনীয় সব তথ্য। সপ্তাহে দুদিন মা এবং একদিন পরিবারের সদস্যরা এ স্বাস্থ্য পরামর্শ সেবা পাবেন। প্রতিটি পরামর্শের জন্য ২ টাকা চার্জ হলেও দরিদ্ররা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সেবা পাবেন।
  • মেহেরপুর হাসপাতালের গুদামে ওষুধ থাকলেও পাননা রোগীরা. গুদাম ভর্তি ওষুধ থাকলেও তা দেয়া হয়নি রোগীদের। এমনকি দেয়া হয়নি সামান্য স্যালাইনটুকুও। শুধু তাই নয়, অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট …

  • মুক্তিযুদ্ধের কিছুদিনের মধ্যেই ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম প্রবাসী সরকার, যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা (বর্তমান উপজেলা মুজিবনগর) …

  • বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) অল্প খরচে সেচ সুবিধা দিতে চালু করে ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় মেহেরপুর জেলায় ৪৫টি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। আরও …

  • মেহেরপুর: আগামী ২৮ অক্টোবর কমিউনিটি পুলিশিং ডে পালন করবে মেহেরপুর জেলা পুলিশ। ২৮ অক্টোবর/১৭ কমিউনিটি পুলিশিং ডে পালন করার আয়োজন করা হয়েছে। সঞ্চালনা: শোভন আরেফ অতিথি: …

ভ্রমণ

    দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে নব নির্মিত মেহেরপুরের গাংনীর ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্ক। সবুজ গাছের ছায়াঘেরা পরিবেশের মায়ায় আবদ্ধ বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা। এছাড়াও কাজলা নদীতে নৌকা আরোহন এক অন্যমাত্রা যুক্ত করেছে। তাইতো প্রায় প্রত্যেকদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষের আনাগোনায় মুখরিত এই পার্কটি।

    মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনী উপজেলা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভাটপাড়া ডিসি ইকো পার্কটির অবস্থান। গাংনী শহর থেকে প্রশস্থ কাথুলী সড়ক দিয়ে পার্কে পৌঁছুতে সময় লাগে মাত্র ১০-১৫ মিনিট। ব্রিটিশ নীলকররা এদেশে যে’কটি নীলকুঠি স্থাপন করেছিল তার মধ্যে অন্যতম এই ভাটপাড়া নীলকুঠি। কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসা কুঠিবাড়িতেই সম্প্রতি নির্মাণ হয়েছে ডিসি ইকোপার্কটি। ব্রিটিশদের নির্যাতনের স্মৃতি বিজড়িত ভগ্নদশা ভবনটি এখন ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    জানা গেছে, নির্মানাধীন পার্কটিতে রয়েছে পশু-পাখির ভাষ্কর্য, দৃষ্টিনন্দন বাগান, পুকুর, শাপলা, ফুটওভার ব্রীজ, ফুলের বাগান ও দেশীয় গাছ সম্মৃদ্ধ বাগান।
    নির্মানাধীন রয়েছে দৃষ্টিনন্দন গেট, পানির ফোয়ারা, লেকের ওভার ব্রীজ, শিশুপার্ক, লেক, স্মৃতি সৌধ, বসার স্থান, মিনি ট্রেন লাইনসহ দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন স্থাপনা।

    ডিসি ইকো পার্কের নকশাকার গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দিলিপ কুমার সেন বলেন, ১০০ বিঘা জমির উপর পার্কটি স্থাপিত হচ্ছে। পার্কের পশ্চিম পাশের কাজলা নদী পুনঃখনন করা হচ্ছে। নদীর দুপাড়ে দৃষ্টিনন্দন বাগানের মধ্যে বসার স্থান ও পায়ে হাটার পথ নির্মান করা হবে। পুনঃখনন কাজ শেষ হলে পার্কটি আরো দৃষ্টিনন্দন হবে।

    কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন “কর্মব্যস্ত জীবনে সারা বছর সময় পাই না, ছুটির দিনে এ রকম স্থানে প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করে কিন্তু আমাদের অঞ্চলে বিশেষ দর্শনীয় স্থান নেই । এই পার্কটি আমাদের মতো মানুষদের জন্য বড় পাওয়া” । পার্কটি নির্মানকারূী কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপাড়ার চাপ কম থাকে। তাই সপরিবারে কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বনভোজন করে সময় পার করেন অনেকেই। তাদের জন্য উত্তম বিনোদনের জায়গা হতে পারে এটি।